২৭ জুন, ২০১৯ | ১৩ আষাঢ়, ১৪২৬ | ২২ শাওয়াল, ১৪৪০


বিবিএন শিরোনাম
  ●  ঈদগাহ উপজেলা হতে যাচ্ছেঃ প্রজ্ঞাপন জারী   ●  রোহিঙ্গারা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী   ●  ঈদগাঁওতে মাদক ব্যবসায় পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে   ●  অবশেষে বরখাস্ত হলেন ডিআইজি মিজান   ●  নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির বৃক্ষরোপনকর্মসূচীর শুভ  উদ্বোধন   ●  অধিকাংশ মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে- উখিয়ায় জেলা প্রশাসক   ●  রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে বৃদ্ধা নিহত   ●  অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকায় ইসলামপুরের শাহিনকে আদালতে প্রেরণঃবাচ্চুর জামিন না মঞ্জুর !   ●  চকরিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার   ●  টেকনাফে ৪টি অস্ত্র ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্রপাচারকারী আটক

রামুতে বিদ্যুৎতের তারে শ্রমিকের মৃত্যু

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পার্শ্ববর্তি কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে উপুর্যপুরি ছুরিকাঘাতে কৃষক আবু তালেবের মৃত্যু আর দৌছড়ি লামার খামারে রহস্যজনক ফাঁসিতে কামাল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনার পর এবার মারা পড়লো অপর এক কৃষক। তার নাম মুহাম্মদ শাহ আলম (৩৪) তার পিতার নাম মুত মোজাহের মিয়া। সে ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা খাসপাহাড়ের আহমদ কবির ঘোনার আগায় নুরুল আমিন ওরফে লতা আমিনের মুরগীর খামারে মালিকের দেয়া চোর ঠেকানের বিদ্যুত তারে জড়িয়ে মারা যায়। ঘটনাটি ঘটেছে গত পরশু বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায়। মৃতের পরিবার এ প্রতিবেদককে জানান,তারা কৃষি পরিবার। তার পিতা মাঝে মধ্যে শ্রমিকের কাজও করে। তাদের বাড়ি কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের আহমদ কবিরের ঘোনার আগায় পাহাড়ের টিলায় বসবাস করে। আর এ টিলার পাশে আমিনের মুরগীর খামার রয়েছে। এ খামারে শ্রমিকের কাজ করে র্বামাইয়া ইউনুছ। সে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় ২ দিনের জন্যে অস্থায়ী দায়িত্ব দেয় শাহ আলমকে।কেননা শাহ আলমের বাড়ি এ খামারের পাশেই। তারা আরো জানান,এ দায়িত্ব নিলেও শাহ আলম নিজের পালিত গরু-ছাগলের তত্বাবধানও করে আসছিলে পূর্বের নিয়মে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে অন্যান্য কাজের শেষে নিজের পালিত গরুর পরিচর্যা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমিনের দেয়া বিদ্যুত তারে জড়িয়ে যায় শাহ আলম। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি পরে ককসবাজার সদর হানপাতালে নিয়ে যায়। ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষনা করলে পরিবারের সদস্যরা একমাত্র আয়ক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যায়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মৃত শাহ আলমের ছেলে মো: আবদুল্লাহ জানান,তার পিতা একজন সম্পুর্ণ সুস্থ মানুষ ছিলেন। দিনের বেলায় রাতের চোর ঠেকাতে দেয়া মুরগীর খামারের মালিকের বিদ্যুতের তারে তিনি মারা যান। নেতারা তার পিতার ময়না তদন্ত করতে দেয়নি সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে । এ জন্যে তারা আইনের কাছে যায়নি। তবে বিষয়টি তাদের বার বার নাড়া দিচ্ছে। সে আরো আরো জানান,তার পিতা এখন ককসবাজার সদর হাসপাতালের রয়েছে। আজ শনিবার সকালে সেখান থেকে এনে তাকে কবরস্থ করা হবে। এদিকে উপজেলার একটি সূত্র দাবী করেন,শাহ আলম মারা যাওয়ার ঘটনাস্থল আমিনের মুরগির খামার এলাকাটি খাস পাহাড়ে। এখানে বিদ্যুত সংযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে কগ কয়েক বছর ধরে। কিন্তু বিদ্যুত অফিসের কিছু দূনীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজসে এ খাস পাহাড়ে অন্তত শতাধিক অবৈধ মিটারের সংযোগ দেয়া হয়। আর এ ধরনের একটিতে মারা যায় শাহ আলম। আর সামনের বর্ষাতে পাহাড় ধস হলে তো কথাই নেই। আরো অনেক দূর্ঘটনা হয়তো অপেক্ষ করছে দেশবাসীর জন্যে।অপর দিকে এ খাস পাহাড়েই গত পহেলা জুন রোহিঙ্গাদের উর্পুযপুরি ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশী কৃষ মারা গিয়েছিলো। যে ঘটনায় কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল আবছার সহ ৭ জনকে নামীয় আসামী আর আরো বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে রামু থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়।পাশাপাশি একইদিন ইউনিয়নের দৌছড়ির লামার খামার এলাকায় রহস্যজনভাবে এক লোকের মৃত্যুর পরপুরো ইউনিয়ন জুড়ে লাশ পড়ার আতংক বিরাজ করছে। তারা বলছেন, বর্তমানে কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়া এলাকায় আইন শৃংখলা বলতে আর কিছুই নেই। জুনের প্রথম সপ্তাহে এ তিনটি লাশ পড়লো কচ্ছপিয়াতে। যা স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত বিরল ঘটনা। যার কারণে মানুষ ভয় পাচ্ছে।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।