২৭ জুন, ২০১৯ | ১৩ আষাঢ়, ১৪২৬ | ২৩ শাওয়াল, ১৪৪০


বিবিএন শিরোনাম
  ●  ঈদগাহ উপজেলা হতে যাচ্ছেঃ প্রজ্ঞাপন জারী   ●  রোহিঙ্গারা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী   ●  ঈদগাঁওতে মাদক ব্যবসায় পুরুষের চেয়ে নারীরা এগিয়ে   ●  অবশেষে বরখাস্ত হলেন ডিআইজি মিজান   ●  নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির বৃক্ষরোপনকর্মসূচীর শুভ  উদ্বোধন   ●  অধিকাংশ মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে- উখিয়ায় জেলা প্রশাসক   ●  রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে বৃদ্ধা নিহত   ●  অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকায় ইসলামপুরের শাহিনকে আদালতে প্রেরণঃবাচ্চুর জামিন না মঞ্জুর !   ●  চকরিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার   ●  টেকনাফে ৪টি অস্ত্র ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্রপাচারকারী আটক

‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’

‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ…’। আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। ফিতরের এক অর্থ ভঙ্গ করা। ঈদুল ফিতরের অর্থ রোজার সমাপ্তি ঘটানোর আনন্দ।অর্থাৎ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা, তারাবির নামাজ, জাকাত-ফিতরা আদায়ের পর মুসলিম উম্মাহ রোজা ভঙ্গ করে মহান আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামতের শুকরিয়াস্বরূপ যে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন তাই ঈদুল ফিতর।এই আনন্দ কর্মশেষে সাফল্যের আনন্দ। এই আনন্দ প্রাপ্তির আনন্দ। এই আনন্দ আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের সাফল্যের আনন্দ। তারপরও ঈদের আনন্দ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উৎসবে রূপ নেয়। তাই এই আনন্দ হয়ে ওঠে সর্বজনীন।এক মাস টানা সিয়াম সাধনাশেষে ঈদের অনাবিল আনন্দ বয়ে আনে এক অপার্থিব অনুভূতি। এ আনন্দ পরকালীন জীবনের জন্য শান্তি ও মুক্তি লাভের এক অনন্য আধ্যাত্মিক অনুভূতির। তাই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রমজান শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখামাত্রই খুশির জোয়ার বয়ে যায় প্রতিটি রোজাদারের দেহ-মনে। এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে ধনী-নির্ধন ছোট-বড় সবার মধ্যে।প্রতিটি প্রাণে দোলা দেয় ঈদ আনন্দ। ঈদুল ফিতর বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসব। দিনটি মুসলমানদের জন্য বরকতময়ও। মানবতার মুক্তির দিশারি হজরত মুহাম্মদ সা: ঈদের প্রচলন করেন। বোখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিসে এসেছে মহানবী সা: বলেছেন, ‘প্রত্যেক জাতিরই উৎসবের দিন আছে। আর আমাদের উৎসব হলো ঈদ।’ হিজরি দ্বিতীয় সন থেকে মুসলমানেরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করে আসছেন।ঈদের দিন সকালে সবাই ঈদগাহে সমবেত হন। একই কাতারে দাঁড়িয়ে আদায় করেন দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ। এরপর সবাই একে অপরের সাথে কোলাকুলি করেন, কুশলবিনিময় করেন। একে অপরের বাড়িতে গিয়ে, সাক্ষাৎ করে ঈদ কুশলবিনিময় করেন, আপ্যায়িত হন।ঈদুল ফিতরে সাদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের নামাজের আগেই তা আদায় করা উত্তম। কোনো কারণে ঈদের নামাজের আগে না পারলে পরে আদায় করে দিতে হবে। ধনীদের সাথে সাথে গরিব-মিসকিনরাও যাতে সমানভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন সে জন্যই এ সাদকাতুল ফিতরের ব্যবস্থা। এবার রাষ্ট্রের পক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মাথাপিছু ফিতরা ধার্য করেছে সর্বনিম্ন ৭০ টাকা।পরিবারের সব সদস্যের জন্য ফিতরা আদায় করতে হয়। ফিতরার হকদার দরিদ্ররা। রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ধনবানরা জাকাত আদায় করেন। এর বড় অংশ পান সমাজের গরিব মিসকিনরা। এভাবেই ঈদ পরস্পরকে খুব কাছাকাছি এনে দেয়। সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম পরশ বুলিয়ে দিয়ে যায়। পরস্পর মিলেমিশে বাস করার শিক্ষা দিয়ে যায়।মূলত আনন্দকে সবার সাথে উপভোগ করার মধ্যেই রয়েছে ঈদের মাহাত্ম্য। এ জন্য ধনীরা জাকাত ছাড়াও বাড়তি দান-খয়রাতও করেন। চারপাশের গরিব লোকদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। এত কিছুর মধ্যেও ঈদের আনন্দ একেবারে সবার ঘরে পৌঁছায় এ দাবি করার সুযোগ নেই। কারণ মুসলিম সংখ্যগরিষ্ঠ এই সমাজে ইসলামী অনুশাসনের অনুপস্থিতিতে সমাজে ধনী-গরিবের ব্যবধান আকাশচুম্বী।ফলে এত কিছুর পরও বছরের বেশির ভাগ দিন যাদের অর্ধাহারে-অনাহারে কাটে তাদের ঘরে ঈদ উৎসবের আমেজ কতটুকু পৌঁছায় সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিষয়টিকে তার কবিতায় চিত্রায়িত করেছেন এভাবে ‘জীবনে যাদের হররোজ রোজা/ক্ষুধায় আসে না নিদ/মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে/এসেছে কি ঈদ?’বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশব্যাপী ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক খচিত ব্যানার দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক, মোড় ও দ্বীপগুলো। উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হবে বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কেন্দ্র ও এতিমখানায়। সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান।টিভি চ্যানেলগুলো ইতোমধ্যে পাঁচ থেকে সাত দিনের বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। জাতীয় সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা, ঈদ ম্যাগাজিন। জাতীয় ঈদগাহে বরাবরের মতো প্রধান ঈদজামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদগাহে টাঙানো হয়েছে বৃষ্টি প্রতিরোধক ত্রিপলসহ শামিয়ানা। পাশে থাকছে নারীদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা। ঈদগাহ ময়দানে নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা।ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে এক মাস ধরে। রাজধানীসহ দেশের শপিংসেন্টারগুলোতে রমজান আসার সাথে সাথেই শুরু হয় কেনাকাটা। বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবার-পরিজনের জন্য ঈদের উপহার নিয়ে গ্রামমুখো হয়েছেন নগরবাসী। তবে এবার বেশ কয়েক দিন টানা ছুটি থাকার কারণে এবং কিছু কিছু সড়ক ও সেতুর উন্নয়নের কারণে পথের ভোগান্তি অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক কম।সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে লক্ষ্মীপুর, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ, বরগুনা, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, কুমিল্লা, ভোলাসহ কয়েকটি জেলার শতাধিক গ্রামে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। এসব গ্রামের মানুষেরা সৌদি আরবের তারিখের সঙ্গে মিল রেখেই রোজাও শুরু করে থাকেন।আগামীকাল বুধবার ঈদুল ফিতরের প্রধান ঈদ জামাত জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে প্রথম ঈদ জামাত। পরে সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে আরও চারটি ঈদ জামাত।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্ববাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। ‘ঈদ মোবারক’।’ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মঙ্গলবার দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর অপার খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। দিনটি বড়ই আনন্দের, খুশির।’তিনি বলেন, ‘এ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে, গ্রামগঞ্জে, সারা বাংলায়, সারা বিশ্বে। শহরবাসী মানুষ শিকড়ের টানে ফিরে যান আপনজনের কাছে, মিলিত হয় আত্মীয়-স্বজনের সাথে। এ দিন সকল শ্রেণি পেশার মানুষ এক কাতারে শামিল হন এবং ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেন।’আবদুল হামিদ বলেন, ‘ঈদ সবার মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন। ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ-এ প্রত্যাশা করি।’তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছে। এই সম্প্রীতি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানির কোনো স্থান নেই। মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহাবস্থান, পরমত সহিষ্ণুতা ও সাম্যসহ বিশ্বজনীন কল্যাণকে ইসলাম ধারণ করে।’তিনি বলেন, ‘ইসলামের এই সুমহান বার্তা ও আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। ইসলামের মর্মার্থ ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য মানবতার মুক্তির দিশারি হিসেবে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ুক, বিশ্ব ভরে উঠুক শান্তি আর সৌহার্দ্যে-পবিত্র ঈদুল ফিতরে এ প্রত্যাশা করি।’

দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা
মুসলিম জাহানের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফিনল্যান্ডে ৫ দিনব্যাপী সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার এক ভিডিও ম্যাসেজে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা দেয়। হিংসা ও হানাহানি ভুলে মানুষ সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ঈদ ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকলের জীবনে আনন্দের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে।তিনি বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন পরিব্যাপ্তি লাভ করুক- এটাই হোক ঈদ উৎসবের ঐকান্তিক কামনা। হাসি-খুশি ও ঈদের অনাবিল আনন্দে প্রতিটি মানুষের জীবন পূর্ণতায় ভরে উঠুক।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, বিশ্বের সকল মানুষের সুখ-শান্তি, কল্যাণ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি হোক-আজকের দিনে আমি মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত শান্তি কামনা করছি।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।